আমাদের মাঝে অনেকেই হয়তো তাপিরের (Tapir) নাম জানি, তবু হলফ করে বলা যায়, তাপিরের নাম না জানা মানুষের সংখ্যাই বাংলাদেশে বেশী হবে ;P
তাপির একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী (mammal) যা দেখলে শুঁড়ওয়ালা শুয়োর অথবা পিঁপড়েভুক (anteater) বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, আসলে এটি ঘোড়া আর গন্ডারের দূর-সম্পর্কের আত্মীয়! এই বংশক্র্মাণুক্রমে তৈরী হওয়া সম্পর্ক কিন্তু তাপিরের মতোই অতি প্রাচীন। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, গত দশ মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের পরেও তাপিরেরা খুব সামান্যই পরিবর্তিত হয়েছে!!
তাপিরদের প্রধানত মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া যায়। কিছু রোমশ তাপিররা আন্দিজ পর্বতমালায় বাস করে, এরা তাপিরের প্রজাতিগুলোর মাঝে সবচেয়ে ছোট। যদিও গরুর সাথে এদের কোনো ধরণের সম্পর্কই নেই, তবু কেন যে এদেরকে “পাহাড়ী গরু (mountain cow)” বলে ডাকা হয় তা এক রহস্য!
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাপিরের বাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে। সাদা-কালো এই তাপিররা বসতি গড়ে মালয়েশিয়া এবং সুমাত্রার বিভিন্ন জলাভূমি ও অরণ্যে।
এরা মূলত নিশাচর। গ্রীষ্মের অলস দুপুরে আপনি হয়তো এদেরকে অলসভাবে শুয়ে থাকতে দেখবেন। দেখে আপনার হয়তো স্লথ (Sloth) এর কথা মনে পড়বে, তাই বলে ভাববেন না, এরা স্লথের মতো ধীরগতির।
এরা যে ঘোড়ার দূরসম্পর্কের আত্মীয় তা এদের ছোটা দেখলেই বোঝা যায়। আকার-আকৃতির দিক দিয়ে অবশ্য গন্ডারের সাথেই এদের মিল বেশী। স্বভাবের দিক দিয়ে উভয়ের সাথেই এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবং অবাধ শিকারের কারণে এরা এখন হুমকির সম্মুখীন। বর্তমানে তাপিরের চারটি প্রজাতিই বিপন্ন অথবা বিলুপ্ত-প্রায় প্রানী হিসেবে চিহ্নিত। শুধুমাত্র বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা তাপিরদের রক্ষা করতে সোচ্চার হওয়ায় এই আদিম প্রাণীটি এখনো পৃথিবীর বুকে টিকে আছে।








































