কেমন হবে আগামীর পৃথিবী!

116

ছোটবেলায় বইয়ে পড়ে এসেছিলাম, বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। যতক্ষন সময় আপনি মুদি বাজারের ফর্দ নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন বা যতটা সময় হিন্দি সিরিয়াল দেখে নষ্ট করছেন, তার মধ্যে পৃথিবী কতদূর এগিয়ে গেছে আপনি কি টের পাচ্ছেন? না! না! নিজ অক্ষে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী কতদূর এগিয়ে গেলো তা নিয়ে কথা বলছি না কিন্তু।কথা হচ্ছে প্রযুক্তির হাত ধরে পৃথিবী আজ কোথায় পৌঁছেছে সে টা নিয়ে। ‎আপনি এখন যেখানে,যে অবস্থায় আছেন ঠিক সেখানে থেকেই চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, এখন তো ২০১৮ সাল, ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবী কোথায় থাকবে? কি দেখতে পাচ্ছেন?? আন্ধার 😛

থাক, আপনাকে আর কসরত করতে হবে না। কেমন হতে পারে আগামী দশকের প্রযুক্তির চেহারা আর সেটার সাহায্যে কি কি ধরণের পরিবর্তন নেমে আসতে পারে এই গ্রহে, আমার আপনার চেনা জিনিসগুলোতে সেই নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

  • রোবটিক্স (Robotics)

আজকাল রোবট বেশ আলোচনা আর আগ্রহের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেও বেশ আলোচনামুখর একটা বিষয়বস্তু ছিলো হিউম্যান রোবট সোফিয়া। রাজধানী ঢাকার গুলশানে কোনো একটা রেস্টুরেন্ট এ লাইন ফলোয়ার রোবট নাকি যাবতীয় কাজ করছে। খাবার পরিবেশন করছে। রোবট নিয়ে আরো কি সব মজার মজার অদ্ভুত অদ্ভুত সব গবেষণা চলছে শুনলাম।
তো আসুন আপনাদের ও শুনাই সেই সব। World Economic Forum এর জরিপ অনুযায়ী আগামী রোবট ইতোমধ্যে Blue Collar Industry  তে কাজ করা শুরু করেছে। খুব দ্রুত তারা White Collar Industry তে ও কাজ শুরু করবে। ধারণা করা যায় যে, আনুমানিক ২০২১ সালের মধ্যে রোবট ফার্মাসিস্ট হিসেবে ও কাজ করবে। ব্যাপারটা একটু খোলাসা করি বলি।
একজন ফার্মাসিস্ট এর ৫/৬ বছরের ট্রেনিং/কাজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি এটা নিশ্চিত করেন যে আপনি সঠিক ঔষধ সঠিক মাত্রায় পাচ্ছেন কি না! কিন্তু এখন গবেষকরা ধারণা করছেন যে, একজন মানু্ষের যে কাজ করতে চার/পাঁচ বছরের জ্ঞান খাটাতে হয়, একটা রোবট নিমিষেই সে কাজ করে দিতে পারে। Houston Medical Centre এর একটা মেডিকেল স্টাডি তে দেখা যায় যে, তাদের ফার্মাসিস্ট প্রতি ১০ হাজার প্রেস্ক্রিপশনে ৫ টা ভুল করে থাকেন। হ্যা এটা কথা সত্য যে, একজন মানুষের জন্য ১০ হাজারে ৫ টা ভুল আহামরি কিছু নয়। কিন্তু এটা অন্য একজন মানুষের জীবনের প্রশ্ন। তাই এইটুকু ঝুঁকিও বা আমরা কেন নিবো যেখানে গবেষণা অনুযায়ী রোবট প্রায় বিনা ভুলে সঠিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হচ্ছে।  চলুন দেখে আসি একটা রোবটিক ফার্মাসির চিত্রঃ

 

এইতো গেলো ফার্মাসিস্ট রোবটের কথা। এবার তবে একটা চমকপ্রদ খবর দেই।

Ingestible Robot, এটা এমন একধরনের রোবট যা কি না মানুষের খাদ্যনালী এবং পেটের ভিতর ঘুরে বেড়াতে পারে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। এরকম একটা রোবটই আসতে চলেছে ২০২৪ সালের দিকে।  ১৯৬৬ সালে Fantastic Voyge নামের একটা মুভিতে এমন একটা জগত কে দেখানো হয়েছিলো যেখানে মানুষকে একদম মাইক্রোস্কোপিক আকারের করে দেয়া হতো এবং তাদের কাজ ছিলো অসুস্থ মানুষদের ভিতরে প্রবেশ করে তাদের রোগমুক্ত কর। প্রায় ৫০ বছর পর সেই কনসেপ্ট কে বাস্তবায়ন করে MIT 'র  CSAIL (Computer Science & Artificial Intelligence Laboratory)  তে এই Ingestible Origami Robot নিয়ে কাজ করে একদল গবেষক। ১৯৮৫ সালে রোবট দিয়ে Stereotatic brain biopsy করা হয়। ঠিক তার পরের বছরই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিতম্ব প্রতিস্থাপন, এন্ডোস্কপি এবং অন্যান্য কিছু ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা করা হয়।

২০১৬ সালের শেষের দিকে  প্রফেসর ডেনিয়েল রুস এবং তার দল মিলে এমন একটা Ingestible Robot ডিজাইন করেন যা কি না চৌম্বকক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে মানব শরীরের অভ্যন্তরে গিয়ে নানা রকম রোগের চিকিৎসা করতে পারবে। ধারণ করা হয় যে, আনুমানিক ২০২৪ সালের দিকেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই ধরণের রোবটের ব্যবহার শুরু হবে। আচ্ছা, এতক্ষনে আপনার নিশ্চই খুব জানতে ইচ্ছা করছে যে, এমন একটা রোবট ঠিক কি দিয়ে তৈরী হতে পারে? খুব অবাক করা হলেও সত্যি যে এটা শুকরের শুকনো অন্ত্র আর চুম্বক দিয়ে তৈরী। 😛

দুই সেন্টিমিটার লম্বা এই রোবটটি অনায়াসেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ ঘা, নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় ঔষধ প্রয়োগের কাজ করতে পারবে। নিচের ভিডিওটি থেকে আরো ভালো করে বোঝা যাবে ব্যাপারটিঃ

  • ইন্টারনেট অফ থিংস (Internet of things)

আচ্ছা আপনি কি IoT কথাটির সাথে পরিচিত? যদি না জেনে থাকেন তবে ছোট্ট করে জানিয়ে রাখি। আই ও টি কথাটির পূর্ণ নাম হচ্ছে ইন্টারনেট অফ থিংস( Internet Of Things) ।

যখন অনেক গুলো ডিভাইস একটা আরেকটার সাথে ইন্টারনেট দ্বারা যুক্ত থাকবে এবং তাদের মধ্যে ডাটা আদান প্রদান হবে, সেই সিস্টেমটাকেই বলা হবে আইওটি (IoT) সেই ডিভাইসগুলো হতে পারে আপনার বাসার টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বাথরুমের কল থেকে শুরু করে একটা শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল, স্ট্রিটলাইট সিস্টেম, GPS ইত্যাদি। আইওটি র মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান সহজ থেকে সহজতর হয়ে যাচ্ছে। সব কিছু খুব সহজ এবং নিরাপদভাবে হচ্ছে।

IoT কিভাবে কাজ করে?

আসলে আই ও টি জিনিসটা হচ্ছে কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সেন্সর আর সফটওয়ার এর খেল। সেন্সর গুলো মানুষ তথা যেকোনো বস্তুর গতিবিধির ভিত্তিতে একটা তথ্য দেয় এবং সেটা প্রসেস হয়ে একটা ডিভাইস থেকে আরেকটা ডিভাইসে প্রেরণ করে। এভাবেই চলতে থাকে একটা আইওটি সিস্টেম। সম্প্রতি আইওটি এত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে, World Economic Forum এর জরিপ মোতাবেক, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে আরো প্রায় ১ ট্রিলিয়ন সেন্সর ইন্টারনেট এর সাথে কানেকটেড হবে অর্থাৎ আই ও টি সম্প্রসারিত হবে! ভাবা যায়!

আই ও টি র কল্যাণে আমরা স্মার্ট হোম, স্মার্ট সিটি এছাড়াও কিছু স্মার্ট ওয়ার‍্যাবল ডিভাইস যেমন স্মার্ট ব্যান্ড, স্মার্ট ওয়াচ এর নাম শুনেছি। কিন্তু এইসব ছোটাখাটো পরিধেয় দিয়ে যেন টেক প্রেমীদের মন ভরছে না। তারা আরো এডভান্স লেভেল এর কিছু চাচ্ছেন।  তাইতো অদূর ভবিষ্যৎ  এ আমরা পেতে চলেছি স্মার্ট ক্লথ।

ফ্যাশন এবং টেক ব্যবসায়ী উভয়ে মিলে ইন্টারনেট কানেকটেড পোশাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন গত কয়েকবছর ধরেই। সেই পোশাক গুলো মানুষের দৌড়ানোর সময় তার গতিবিধি পর্যালোচনা করবে, হার্টবিট মেপে প্রয়োজন হলে তাকে সতর্ক-বার্তা ও দিবে। তবে এইসব পোশাক যে শুধুমাত্র কিছু উন্নত ফিচারসম্পন্ন তা কিন্তু নয়। এগুলো পরতে বেশ আরামদায়ক এবং দেখতেও বেশ ফ্যাশনসম্মত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পোশাকগুলোর মধ্যে কি এমন যাদুর কাঠি আছে যে এতো কিছু করে ফেলবে? এরা কিছু এমবেডেড সেন্সর, আর NFC ট্যাগ ইউজ করে থাকে।

NFC ট্যাগের কথা বলাতে মনে পড়ে গেলো অতি জনপ্রিয় একটা কোম্পানী স্যামসাং এর কথা। অতি-সম্প্রতি স্যামসাং উন্মোচন করতে যাচ্ছে NFC ট্যাগ স্যুট যার হাতায় লাগানো থাকবে এই ট্যাগটি। এছাড়াও স্যামসাং এর আছে এমন কিছু পার্স যার মধ্যে মোবাইল রাখলে অটোম্যাটিকেলি চার্জ হতে থাকবে। স্যামসাং এর আরো একটা চমৎকার জিনিস আছে। বায়ো-স্মার্ট শার্ট! এই শার্ট আপনার হার্টবিট আর শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করবে।

স্যামসাং স্মার্ট স্যুট

শুধু যে স্যামসাং তা কিন্তু নয়। গুগল, OMSignal, Hexoskin এর মতো নামীদামী কিছু কোম্পানীও স্মার্ট ক্লথের জন্য বিনিয়োগ করছে।

চমক এখানেই শেষ নয়, আরো আছে। এতদিন আমরা দেখেছিলাম নানান রকমের জামাকাপড়, বেল্ট ব্যবহার করে শরীরের মেদ কমানো যায়। তবে একটু দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস। এখন দেখবো জামার সাথে কিভাবে মোবাইল এপ কানেক্ট করে নিমিষেই মেদ কাটানো যায়। নিচের ভিডিওটা দেখলেই আরো ভালোভাবে বোঝা যাবেঃ

ভিডিও তে যে জ্যাকেট টি দেখতে পাচ্ছেন এটাই ওজন কমানোর কাজ করে। আমাদের শরীরে হোয়াইট (শরীরের জন্য ক্ষতিকর) ও ব্রাউন (উপকারী) দুই ধরণের ফ্যাট থাকে। ব্রাউন ফ্যাট কুলিং ইফেক্ট এর মাধ্যমে হোয়াইট ফ্যাটকে ভেঙে ফেলে। এই বৈশিষ্ট্য কে কাজে লাগিয়েই ভিডিওর জ্যাকেটটিও কাজ করে। এক্ষেত্রে কুলিং ইফেক্ট সৃষ্টি করে ব্যাটারিচালিত কুলিং চিপ। আর জ্যাকেট এর ভিতর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে Thin Ice Companion App। এই অ্যাপ আইফোন, এন্ড্রয়েড, উইন্ডোজ সবরকম অপারেটিং সিস্টেম এর জন্যই পাওয়া যায়। এই রকম আরো নানান রং এর নানান ঢঙ এর স্মার্ট ক্লথ পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় ১০% মানুষ এই রকম স্মার্ট ক্লথ পরিধান করবে।

  • ইমপ্ল্যান্টেবল মোবাইল (Implantable Mobile)

আচ্ছা এইযুগে এমন কেউ কি আছেন যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। আট থেকে আশি, আজ আমরা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি। এটা আসলে এখন আমাদের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে। এককালে মোবাইল ফোন ছিলো আকারে অনেক বড় আর এন্টেনা ওয়ালা। কালে কালে পরিবর্তন আসতে আসতে এখন কি কি না হয় মোবাইল ফোন নিয়ে! এখন কথা বলবো ইমপ্ল্যান্ট্যাবল মোবাইল ফোন নিয়ে।

কাউকে যদি বলা হয়, মোবাইল ফোন ছাড়া ২৪ ঘন্টা থাকা যাবে? চিন্তা করতেই অসম্ভবব লাগে। মোবাইল ছাড়া আমাদের চলেই না। তাই প্রযুক্তির কল্যাণে আপনার মোবাইল থাকবে আপনার আরো কাছে। একেবারে আপনার শরীরের ভিতর ইমপ্ল্যান্ট করা। অবিশ্বাস্য লাগছে! মনে হচ্ছে বিজ্ঞান এই সব কি পাগলামী শুরু করলো! আসলে এটাই সত্যি।

ইমপ্ল্যান্ট্যাবল সেল ফোনের প্রোটোটাইপ ডিজাইন প্রথম করা হয় ২০০২ সালে লন্ডনের রয়েল কলেজ অফ আর্ট এ। মূলত তাদের চিন্তাভাবনা ছিলো এরকম যে, একটা ইমপ্ল্যান্ট্যাবল চিপ যেটা মানুষের দাতের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এর মধ্যে একটা রিসিভার থাকবে যেটা দিয়ে মোবাইল ফোন সিগন্যাল রিসিভ করবে চিপ টি। আর ছিলো একটা ট্রান্সডিউসার যা রিসিভড সিগন্যাল কে ভাইব্রেশনে রুপান্তর করবে। কিছুটা নিচের ছবির মতঃ

সেলফোন ইমপ্ল্যান্ট

ছবির এই কনসেপ্ট ধরেই আজ টেকনোলজী এক অভাবনীয় বস্তু বানাতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের দিকে এমন একধরণের মোবাইল আসতে চলেছে যা মানুষের মাথায় বসিয়ে দেয়া যাবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে এটা কিভাবে কাজ করবে? জেনে নেয়া যাকঃ

বর্তমান সময়ের মোবাইলগুলোতে এক্সিলারোমিটার থাকে যা গতিবিধি আর বল পরিমাপ করতে পারে। এক্সিলেরোমিটার পিজো ইলেকট্রিক ক্রিস্টাল বহন করতে পারে এবং একে চোয়ালের হাড়ে বসানো যেতে পারে। ফলে চোয়ালের গতিবিধি নির্ণয় করতে পারবে। যখন মানুষের মাথা নড়ে তখন চোয়াল ও নড়বে। মোটকথা, পিজো ইলেকট্রিক ক্রিস্টাল এর মাধ্যেম ডিভাইসটা চোয়ালের গতিবিধি নির্ণয়ের মাধ্যেম মাথার গতি নির্ণয় করছে। এতে করে ইলেক্ট্রিক পালস এর শেইপ পরিবর্তন হবে। এইভাবে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কি প্যাডে ১,২,৩  নাম্বার ডায়াল হবে। সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহারকারীকে মাথা আর চোয়ালের গতিবিধি সম্পর্কে একটু শিখে নিতে হবে। অঙ্গচালনা করলে যে ইলেক্ট্রিক ইমপালস তৈরী  হয় তা ফোনের মাইক্রোপ্রসেসর এ গিয়ে প্রসেস হয়। ধরুণ আপনি ১০ ডায়াল করতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে  আপনাকে ১০ বার অঙ্গচালনা করতে হবে।

এই পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে আপনার ফোন সর্বদা আপনার ই থাকলো। কোনোভাবেই ফোন চুরি হয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি অন্য কেউ নিয়ে নিতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে ফোন রেডিয়েশন, ম্যাল-ফাংশান মানুষের শরীরের উপর কি কি প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এর ব্যবহার কিভাবে আরো সহজ করা যায় সেটা নিয়েও কাজ চলছে। মোটামুটি ২০২৩ সালের দিকেই এই আজব মোবাইল ফোনের দেখা মিলবে ধারণা করা যায়।

  • হাইপারলুপ (Hyperloop)

অনেকের গাড়ি কেনা নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু গাড়িগুলোর নিজেদের নিয়ে কি স্বপ্ন সেটা কি জানতে চেয়েছেন একবার ও! ওনাদের মধ্যে কেউ কেউ তো আবার স্বয়ং-চালিত হয়ে বসে আছেন। যেমন, চালকবিহীন গাড়ির কথা বলছি। তবে এখানেই শেষ না। আসছে হাইপারলুপ। এটি  এলন মাস্ক প্রস্তাবিত একটা প্রকল্প।

হাইপার লুপ হবে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা।  এই ট্রেনটি মূলত এক ধরণের ভ্যাকুয়াম টিউব এর মধ্যে দিয়ে চলবে যার গতি হবে ঘন্টায় ৭০০ মাইল। এলন মাস্ক এই প্রস্তাবনা নিয়ে আসেন ২০১২ সালে। আশা করা যায় যে, ২০২০ সালের মধ্যেই এটি চালু হয়ে যাবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, প্রথম চালু হওয়া হাইপারলুপ কিন্তু ইউএস এর মধ্যে নয়। এটি প্রথম চালু হবে টরেন্টো আর কানাডার মন্ট্রেল শহরের মধ্যে।

এই হাইপারলুপ এতই দ্রুতগতিসম্পন্ন হবে যে টরেন্টো থেকে মন্ট্রেল পর্যন্ত  ৬৪০ কিলোমিটার পথ আসতে তার লাগবে মাত্র ৩৯ মিনিট। টরেন্টো থেকে রওনা দিয়ে ৪৫০ কি.মি দূরের অটোয়া আসতে তার লাগবে ২৭ মিনিট সময়। অটোয়া থেকে ১৯০ কিমি দূরের মন্ট্রেল পৌছাতে তার লাগবে মাত্র ১২ মিনিট। এতই দ্রুত গতি সম্পন্ন হবে এটি। নিচের ভিডিওটা থেকে ভালো একটা ধারণা পাওয়া যাবে আশা করি।

 

  • কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial  Intelligence)

প্রযুক্তির অনেকক্ষেত্র নিয়েই তো কথা হলো। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলো। এখন কথা বলবো খুব সমৃদ্ধশালী একটা ক্ষেত্র আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

ছোট্ট করে একটু আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স নিয়ে জেনে নেই আগে।

নাম থেকেই হয়তো খানিকটা আন্দাজ করা যায় বিষয়টা আসলে কি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।  বুদ্ধিমত্তা কে কৃত্রিম বলা হচ্ছে কারণ এই বুদ্ধি আমার আপনার মতো মানুষের নয়, মেশিনের। যখন মেশিন বুদ্ধি খাটিয়ে কোনো ইনফরমেশনকে প্রসেস করে এবং অবস্থানুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

পূর্বের অনেক ভালো কিছু কাজের উদাহরণ পাওয়া যাবে এটির প্রয়োগের মাধ্যেম। তবে আমাদের আজকের কাজ আপাতত এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা। একটা জরিপে দেখা গেছে যে, ২০২৬ সালের দিকে AI(Artificial  Intelligence) একটা কর্পোরেট সেক্টরের বোর্ড অফ ডিরেক্টরি তে জায়গা করে নিবে। অর্থাৎ মিটিং হবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাথে।

শেষ করবো একটা খুব মজার খবর দিয়ে।

২০২৪ সালের মধ্যেই পৃথিবীর প্রায় বেশির ভাগ অংশই ইন্টারনেট এর আওতায় চলে আসবে এবং ইন্টারনেট এক্সেস অন্যতম মৌলিক অধিকার করা হবে। প্রশ্ন আসতে পারে এটা আবার উন্নয়নের কি হলো? ইন্টারনেট তো সব জায়গাতেই আছে। আপনার ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এখনো পৃথিবীতে প্রায় ৪ বিলিয়ন লোক আছে যারা জীবনের শুরু থেকে আজ অব্দি ইন্টারনেট এক্সেস করেননি। গুগল, ফেইসবুকের মতো বড় বড় কোম্পানীগুলো চেষ্টা করছে তাদের ইন্টারনেট এর আওতায় আনার। ফেইসবুকের Internet.org স্যাটেলাইট কেন্দ্রিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা কে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ড্রোন ব্যবহার করছে। গুগল এর প্রজেক্ট Loon বড় বড় সব ভাসমান বেলুন শুণ্যে ভাসিয়ে দিয়ে সংযোগহীন জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার কাজ করছে।

এখানেই শেষ নয়। পূর্বের কথা মতো থেমে নেই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা। আপনি রাতে ঘুমোতে গেলেন, সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করে চায়ের সাথে ইন্টারনেটে ঢুঁ মারলেই হয়তো শুনতে পাবেন নতুন কোন প্রযুক্তির খবর। যা আপনার জীবনে নিয়ে আসতে পারে অবিশ্বাস্য গতিময়তা। টেক বিশ্বে আপনাকে অভিনন্দন।

রেফারেন্সঃ 

  1. https://westhoustonmedical.com/
  2. https://www.wareable.com/smart-clothing/thin-ice-system-weight-loss-clothing-line-2710
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Hyperloop
  4. https://www.cnet.com/news/the-mobile-phone-of-the-future-will-be-implanted-in-your-head/
  5. http://news.mit.edu/2016/ingestible-origami-robot-0512

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?