পৃথিবীর কিছু চমকপ্রদ তথ্য

753

সৌরজগত!! এক রহস্যের নাম। এত বিশাল এর বিস্তৃতি যার খুব কিয়দংশই মানুষ আজ পর্যন্ত জানতে পেরেছে ।আমরা যে সৌরজগতে আছি সেটাকে বলে আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে। এই সৌরজগতের যে গ্রহ নিয়ে সবচেয়ে বেশি জানা গেছে বলে ধারণা করা হয় সেটি হল পৃথিবী। কারণ আমরা এটায় বসবাস করি। এই লেখায় আমাদের পৃথিবী নিয়ে কিছু জানা অজানার বিষয় তুলে ধরা হলঃ

পৃথিবীঃ

১। আমাদের সৌর জগতের একমাত্র গ্রহ যার নামকরণ কোনো গ্রীক বা রোমান দেবতার নামানুসারে করা হয়নি। Earth শব্দটি এসেছে ইংরেজি শব্দ “Eorthe” এবং জার্মান শব্দ “Erda”  থেকে। যার অর্থ ভূমি বা মাটি।আনুমানিক ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে গঠিত হওয়া একমাত্র গ্রহ যেটাতে জানামতে প্রাণের বিকাশ হয়েছে। সূর্য থেকে যার দূরত্ব ৯২.৯৬ মিলিয়ন মাইল।

২। পৃথিবীর ঘূর্ণন আস্তে আস্তে ধীরগতির হচ্ছে। খুব কম মাত্রায় বলে এটা আপাতভাবে বোঝা যায়না । প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ১৭ মিলিসেকেন্ড করে। যেমন ১৪০ মিলিয়ন বছর পরে পৃথিবীতে একদিন এর গড় দৈর্ঘ্য ২৪ ঘন্টা থেকে ২৫ ঘন্টা হবে।

৩। পৃথিবীর অভ্যন্তরে কেন্দ্রের তাপমাত্রা অনেক বেশি ।এই তাপমাত্রা এতই বেশি যে তা প্রায় সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার সমান। এর মান প্রায় ৫৪০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

৪। আমাদের সৌর জগতের সবচেয়ে বেশি ঘনত্বের গ্রহ পৃথিবী। পৃথিবীর এক এক অংশে এর পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। তবে গড় ঘনত্ব হিসেব করলে এর মান প্রায় ৫.৫২ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার।

৫। নিঃসন্দেহে এন্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল স্থান। শীতে এই তাপমাত্রা কমে -১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট(-৭৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস) এর ও নিচে নেমে যায়। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হল এ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাশিয়া তে। ১৯৮৩ সালের ২১শে জুলাই রাশিয়ার ভস্টক স্টেশানে(Vostok Station) রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল -৮৯.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস যা এখন পর্যন্ত পাওয়া পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাওয়া গিয়েছিল লিবিয়ার আল আজিজিয়া তে । ১৯২২ সালে রেকর্ডকৃত সেই তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৩৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট ।

৬। পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান কোনটি? এই প্রশ্নে হয়ত আমাদের অনেকের মাথায় আসবে সমুদ্রের তলদেশ এর কথা। কিন্তু পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোনো সমুদ্রের তলদেশ নয় বরং এটি একটি স্থলভাগ। পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম স্থানের গভীরতা ৩৫৮১৩ ফুট(১০৯১৬ মিটার) যেখানে সবচেয়ে গভীর সমুদ্রের গভীরতা ৮৩৮২ ফুট(২৫৫৫ মিটার)। আর সেই গভীরতম জায়গাটি হল এন্টার্কটিকার বেন্টলে সাবগ্ল্যাসিয়াল ট্রেঞ্চ (Bentley Subglacial Trench) যেটি বরফ ঢাকা।

৭। পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগ ই সমুদ্র দিয়ে ঢাকা। মানুষ যার ৫ ভাগ সম্পর্কে মাত্র জানতে পেরেছে ।এই বিশাল সমুদ্রভাগের ৯৫ ভাগই এখন পর্যন্ত অজানা। আশ্চর্যের বিষয় হল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে একটি মাত্র মহাদেশ ছিল।সেই বিশালাকার মহাদেশ কে প্যানাসিয়া (Pangaea) বলা হত। এবং তখন বিশাল একটা ই সমুদ্র ছিল যাকে বলা হয় প্যান্থালাসসা(panthalassa) ।

 

৮। পৃথিবীতে যে পরিমান পানি আছে তার মাত্র ০.০০০৩% পানি মানুষ আজ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পেরেছে।

৯। পৃথিবীর ইতিহাস কে যদি ২৪ ঘন্টায় কনভার্ট করা হয় তাহলে ব্যাপারটা কিছুটা এমন হবে ডাইনোসর এর বিলুপ্তি হয়েছে 11.41.00 pm এ এবং মানব সভ্যতা শুরু হয়েছে 11.54.43 pm এ।

১০। পৃথিবীর সমুদ্রভাগ অনেক ধনী ও বলা যায়। এই সমুদ্রভাগে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন সোনা আছে। কিন্তু লোভ করে লাভ নেই ।এই সোনা পানিতে মিশ্রিত অবস্থায় আছে। কিছু সোনা সমুদ্রের তলদেশে বিভিন্ন পাথরে অবিমিশ্রিত অবস্থায় ও আছে। কিন্তু এটা উত্তোলন করার ভালো কার্যকর পদ্ধতি নেই এখন ও। National Oceanic and Atmospheric Administration(NOAA) এর মতে এই সকল সোনা যদি উত্তোলন করা যেত তাহলে পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ গড়ে ৯ পাউন্ড করে পেত।

১১। প্যাসিফিক সাগর কে সবচেয়ে বড় সমুদ্র অববাহিকা বলা হয়। এটার আয়তন প্রায় ৫৯ মিলিয়ন স্কয়ার মাইল (১৫৫ মিলিয়ন স্কয়ার কিলোমিটার)।এবং এতে যে পরিমাণ পানি আছে তা পৃথিবীর মোট পানির অর্ধেক এর ও বেশি। NOAA এর মতে, এটা এত বিশাল যে পৃথিবীর সকল মহাদেশ এতে বসিয়ে দেয় যাবে।

১২। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থান বলা হয় চিলি এবং পেরুতে অবস্থিত আটাকামা মরুভূমি (Atacama Dessert) কে। এই মরুভূমির কেন্দ্রে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে কখনো বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়নি।

১৩।দক্ষিণ ইটালির স্ট্রম্বলি (Stromboli) আগ্নেয়গিরি কে  পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। গত প্রায় ২০০০ বছর ধরে এটি ধারাবাহিকভাবে ক্রমাগত অগ্ন্যুতপাত ঘটিয়ে যাচ্ছে। একে ভূমধ্যসাগরের বাতিঘর বা Lighthouse of Mediterranean বলেও ডাকা হয়।

 

Reference: Wikipedia

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

SHARE