অদ্ভুত প্রাণী রেড-আইড ট্রি ফ্রগ

941

রেড আইড ট্রি ফ্রগ

রেড-আইড ট্রি ফ্রগ নাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটা একটা ব্যাঙ। আরো একটি জিনিস বুঝা যাচ্ছে তা হলো এটা গেছো ব্যাঙ্গ। সত্যিই তাই, অসম্ভব সৌন্দর্যের অধিকারী এই প্রাণীগুলো এক ধরনের গেছো ব্যাঙ।

রেইন ফরেস্টে এই জাতীয় ব্যাঙের নিবাস। একটি মেয়ে ব্যাঙ একটি পাতার উপর এক গুচ্ছ ডিম পাড়ে। পাতাটিকে অবশ্যই নদী, পুকুর বা কোনো জলাশয়ের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে হয়। তাই পাতাটি বেশ সতর্কতার সাথে বেছে নেয়া হয়। ডিমগুলো পরিপক্ব হলে বাচ্চা ব্যাঙগুলোর সাহসী নড়াচড়া দেখা যায়। তাদের এই নড়াচড়াতেই ডিমগুলো ফেটে যায় আর তারা মুক্ত হয়। মুক্ত হয়েই সরাসরি যেয়ে পড়ে পুকুরে। এই বাচ্চা ব্যাঙগুলোকে বলা হয় ব্যাঙাচি বা tadpoles। পুকুরে এরা ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। তাদের বৃদ্ধি না হওয়া আগ পর্যন্ত তারা পানিতেই বাস করে। বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা বাদামী বর্ণ ধারণ করে। এই পর্যায়কে ‘মেটামরকস’ বলা হয়।

এই পর্যায়ে তারা পানি থেকে ডাঙ্গায় উঠে আসে আর নিকটবর্তী কোনো গাছে চড়ে বসে গেছো ব্যাঙ হিসেবে বাঁচার জন্য। যখন তারা পরিপূর্ণ হয় তখন এরা এক ধরনের অদ্ভুত সবুজ বর্ণ ধারণ করে। এই সবুজ বর্ণ চোখে পড়ার মতো। এ সময় তাদের শরীরের চারপাশে হালকা নীল হলুদ ডোরা কাটা থাকে। পায়ের উপরের অংশে নীল রঙের আভা থাকে আর চোখ দুটো থাকে বড় টকটকে লাল রঙের।

গায়ের রঙ সবুজ হওয়াতে এগুলো সহজেই গাছের পাতার সঙ্গে মিশে থাকতে পারে। এতে করে এরা একদিকে শত্রুদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। অন্যদিকে শিকার সহজে ধরতেও পারে। এই ব্যাঙগুলো রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে আর দিনের বেলায় বিশ্রাম নেয়। দিনের বেলায় এরা পাতার নিচের অংশে চোখ বুঝে ঘুমিয়ে থাকে আর পা দিয়ে আঁকড়ে রাখে পাতা। তাই এ সময় এদের দেখাই যায় না।

এখন প্রশ্ন জাগে, এদের শরীর এতো উজ্জ্বল রঙের কেন ? আর কেনই বা এত বড় বড় লাল চোখ থাকবে ?এই আকর্ষণীয় রঙের একটাই কারণ: আত্মরক্ষা। প্রথমতঃ এরা সবুজ রঙ দিয়ে গাছের সাথে মিশে থাকে। তারপর যদি কোনো শিকারী তাকে চিনে ফেলতে পারে তখন বিপদ, সে সময় এরা কাজে লাগায় এদের বড় বড় লাল চোখ।

এছাড়া এর নীলাভ পায়ের রঙটাও বেশ আকর্ষণীয়। এতগুলো রঙের ছড়াছড়ি হঠাৎই শিকারিকে বোকা আর সন্দিহান বানিয়ে দেয় আর সে মুহূর্তেই সে দেয় ছুট।

অদ্ভুত প্রাণী রেড আইড ট্রি ফ্রগ                 অদ্ভুত প্রাণী রেড আইড ট্রি ফ্রগ

 

সূত্র: techtodaybd

ছবিঃ ইন্টারনেট

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?