মাত্রা এবং স্রষ্টা

পরিচিত পৃথিবীতে মাত্রা আমাদের একটি অতি পরিচিত শব্দ । কিন্তু মাত্রা ব্যাপারটা আমাদের অনেকের কাছেই দুর্বোধ্য । কোন প্রসঙ্গ কাঠামোয় যে কয়টি সূচক থাকলে কোন বস্তু কণার অবস্থান সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায় তাই ওই প্রসঙ্গ কাঠামোয় ঐ বস্তুটির মাত্রা । আমারা যে জগতে বিচরণ করি তা মূলত ত্রিমাত্রিক । অনেকে আবার সময়কে বিবেচনায় নিয়ে একে চতুর্মাত্রিক ও বলে থাকেন । এখন প্রশ্ন হচ্ছে ত্রিমাত্রিক ছাড়াও আরও উচ্চমাত্রার বস্তুজগত কি থাকা সম্ভব ? আর থাকলে তা কিরূপ হবে ? আমরা সেই জগতের মাত্রা গুলিকে কিরূপ দেখব ?

সরাসরি এর উত্তর দেয়া কঠিন । কিন্তু আমরা যদি নিম্ন মাত্রার বস্তু জগতকে পর্যবেক্ষণ করি তবে তা থেকে কিছুটা ধারণা পওয়া সম্ভব । যেমন একটি বস্তু রেখা যদি আঁকি তবে তা হবে একমাত্রিক । কারণ তার কেবল মাত্র দৈর্ঘ্যই রয়েছে । আবার বর্গ বা বৃত্ত বা যে কোন জ্যামিতিক আকৃতি বা ছবি হবে দ্বিমাত্রিক । যার দুটি মাত্রা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ । দুই অক্ষবিশিষ্ট কাঠামোয় এদের সংজ্ঞায়িত করা যায় । আমাদের আশেপাশের প্রায় সকল বস্তু ত্রিমাত্রিক । এদের তিনটি মাত্রা আছে, তা হল দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা । এভাবে আরও উচ্চমাত্রার ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছাড়াও অন্য কোন রাশির মাধ্যমে বস্তুকে প্রকাশ করা যাবে এবং এরূপ কোনো উচ্চমাত্রার বস্তুজগত থাকা খুবই সম্ভব।

এখন দ্বিতীয় প্রশ্নে আসা যাক । এক্ষেত্রেও নিম্নতর মাত্রা আমাদের উচ্চতর মাত্রার উপলব্ধিতে সহায়ক । যেমন দ্বিমাত্রিক কোন প্রাণী বা সত্ত্বা ত্রিমাত্রিক জগৎকে কি ভাবে দেখবে ? নিচের ছবির দিকে লক্ষ করা যাক :-

ধরে নিই মি. পেন্টাগন একজন দ্বিমাত্রিক প্রাণী । তার শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে । মি. সার্কেল ও তাই । এখন দুজন যখন দুজনকে দেখবে তখন কেবল মাত্র একটি রেখার মত দেখতে পাবে । কেননা তাদের দ্বিমাত্রিক তলে উচ্চতা বলে কিছু নেই । মি. সার্কেলের পুরোটা দেখতে হলে মি. পেন্টাগনকে মি. সার্কেলের চারদিকে পুরোটা ঘুরে আসতে হবে । কিন্তু মি. সার্কেলের ভেতরের চতুর্ভুজটা দেখতে পাবেনা । এখন মি. পেন্টাগন ও মি. সার্কেল ত্রিমাত্রিক প্রাণীকে কেমন দেখতে পাবে সে প্রসঙ্গে আসা যাক ।

ত্রিমাত্রিক কোন প্রাণির ক্ষেত্রে মি. পেন্টাগন আগের মতই কেবলমাত্র একটি রেখার মত বস্তু দেখতে পাবেন । কেননা তার দুই মাত্রার সীমিত জগতের সাথে ত্রিমাত্রিক জগতের ছেদ করা অংশটুকুই কেবল তার দৃষ্টি গোচর হবে। অর্থাৎ মি. কিউব এর যখন যে অংশটুকু মি. পেন্টাগনের দ্বিমাত্রিক জগতে থাকবে তখন সেটুকুই কেবল তিনি দেখবেন । মি. কিউব মি. পেন্টাগনকে কিরূপে দেখবেন সে প্রসঙ্গে বলি । মি. কিউব কিন্তু মি. পেন্টাগনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই সাথে দেখতে পাবেন । এখন যেমন আমরা পাচ্ছি । আবার তিনি কিন্তু ত্রিমাত্রিক হওয়ায় মি. পেন্টাগনের ভিতরে থাকা বৃত্তটিকেও দেখতে পাবেন । তাকে পুরোটা দেখতে এমনকি ঘুরেও আসতে হবে না ।

 

এবার এই পর্যবেক্ষণ আমরা উচ্চতর মাত্রার প্রাণী ও বস্তুর সাথে আমাদের তুলনায় কাজে লাগাতে পারি।

মি.পেন্টাগনকে যেমন মি.সার্কলের পুরোটা দেখতে চারদিক ঘুরে আসতে হয় আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রেও কিন্তু তাই । আবার মি. কিউব কিন্তু ঘুরে আসা ছাড়াই মি.পেন্টাগনের পুরোটা দেখতে পায় (এবং আমরাও)। একইভাবে উচ্চমাত্রার প্রাণীরাও কিন্তু মি কিউব এবং আমাদের চারদিক ঘুরে আসা ছাড়াই আমাদের পুরোটা দেখতে পাবে।

 

অর্থাৎ কোনো চতুর্থ বা পঞ্চম বা আরও উচ্চ মাত্রার প্রাণী আমাদের সামনের বা পেছনের উভয় দিক একই সাথে অনায়াসে দেখতে পাবে।

মি. পেন্টাগন মি. সার্কলের দেহরেখা দিয়ে ঘিরে থাকা অংশের ভিতরের চতুর্ভুজটি দেখতে পাননা । মি. কিউব এবং আমরা যা সহজেই দেখতে পাই। একইভাবে উচ্চতর মাত্রার প্রাণীরাও নিম্নতর মাত্রার প্রাণীদের ভেতরকার বস্তসমূহ দেখতে সক্ষম হবে সহজেই; ব্যবচ্ছেদ বা অন্য কিছুর প্রয়োজন ছাড়াই।

আবার মি. পেন্টাগন মি. কিউব এর দেহকে রেখার আদলে দেখেছিলেন । কেননা মি. কিউব এর যে অংশটুকু তার দ্বিমাত্রিক জগতে ছিল তিনি কেবল সেটুকুই দেখেছিলেন । তেমনিভাবে উচ্চতর প্রাণী বা বস্তুর যে অংশটুকু আমাদের ত্রিমাত্রিক জগতে থাকবে বা একে ছেদ করবে আমরা কেবল সে অংশটুকুই দেখতে পাবো । অর্থাৎ উচ্চতর মাত্রার প্রাণী যদি থেকেও থাকে, তবু আমরা কেবলমাত্র তার যে মাত্রাগুলো আমাদের সাথে মিলে যায় আমরা কেবল সেগুলোই সহজভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হব । ভিন্ন মাত্রার পর্যবেক্ষণ সরাসরি সম্ভব হবেনা ।

মাত্রা বিষয়ক এই পর্যবেক্ষণগুলো অনেকে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও গুণাবলীর ব্যাখ্যায় ব্যাবহার করেন । কেমন করে স্রষ্টা একইসাথে সর্বত্র বিরাজ করেন , কেমন করে তিনি সর্বদ্রষ্টা হন - এই ব্যাপারগুলোর ব্যাখ্যা কিছুটা হলেও এখান থেকে পাওয়া যায় । যেখানে একটিমাত্র মাত্রা বেশি হওয়ার কারণে মি কিউব মি পেন্টাগনের চারদিক এবং ভেতরকার দিক পর্যন্ত দেখতে সক্ষম হয় সেখানে স্রষ্টা যদি অনেক উচ্চ মাত্রা জুড়ে অবস্থান করেন তবে তাঁর পক্ষে সর্বত্র বিরাজ করা , সর্বদ্রষ্টা হওয়া বেশ সঙ্গত কারণেই সম্ভব ।

[plulz_social_like width="350" send="false" font="arial" action="like" layout="standard" faces="false" ]

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

1 COMMENT