আমরা সকলেই কমবেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন শব্দদুটির সাথে পরিচিত।আর অনেকেই জানি এগুলো শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।আসলে ভিটামিন গুলো ছাড়াও বেশ কিছু খনিজ লবনও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।যাই হোক এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো আমাদের শরীরের কিছু জটিল রোগের বিরুদ্ধে খুব ভাল কাজ করে।তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এগুলো কাজ করে।
প্রাণীজ-চর্বি জাতীয় খাবার আমাদের খুব প্রিয়।কিন্তু এই সকল উচ্চ প্রাণীজ-চর্বি খাবার ফলে আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমান ফ্রী রেডিক্যাল উৎপন্ন হয়।কিন্তু আমরা যদি এসব উচ্চ প্রাণীজ-চর্বি এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত কম চর্বিযুক্ত খাবার ও সবজি জাতীয় জিনিস খাদ্য তালিকায় রাখি তবে এই ফ্রী রেডিক্যাল খুবই কম উৎপন্ন হয়।কারন এই প্রাণীজ-চর্বি জাতীয় খাবার গুলো মেটাবলিসম(বিপাক) করার সময়ই আসলে এই ফ্রী রেডিক্যাল প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়।তাছারাও সূর্যকিরণ,ধূমপান,কিছু ঔষধ,অতিরিক্ত বায়াম ইত্যাদির ফলে আমাদের শরীরে এই ফ্রী রেডিক্যাল এর সংখ্যা বেড়ে যায়।এই ফ্রী রেডিক্যাল কনা গুলো হল অতি-উচ্চ কার্যক্ষম অক্সিজেন কনা যারা কিনা একেবারেই অস্থিতিস্থাপক ও অন্য কোন কনা থেকে ইলেকট্রন নিয়ে স্থিতিস্থপক হতে চায়।এরা বিপাক এর পরে রক্ত প্রবাহে ঘুরতে ঘুরতে একটি করে ইলেকট্রন হারিয়ে এই অস্থিতিস্থাপক অবস্থায় পড়েছে।এখন এই ফ্রী রেডিক্যাল কনাগুলো যখন রাসায়নিক স্থিতিস্থপকতার জন্য অন্য কনিকা থেকে ইলেকট্রন ছিনিয়ে নেবার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠে তখনই কান্সার,টিউমার,হৃদরোগ,ষ্টোক এর মত ভয়াবহ রোগগুলো আমাদের শরীরে বাসা বাধে।এসব ফ্রী রেডিক্যাল কনাগুলো আমাদের কোষের যেকোনো জায়গায় এমনকি DNA এর স্থায়ী ক্ষতি করে জেনেটিক ডিস-অর্ডার পর্যন্ত করতে পারে।এবার আসি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা ভিটামিন কিভাবে কিভাবে এগুলো প্রতিরোধ করতে পারে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুলো একটি করে ইলেকট্রন দাণ করে এই ফ্রী রেডিক্যাল
কনাগুলোর মোকাবিলা করে থাকে।এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে- এই ভিটামিন গুলো এদের নিজেদের মধ্যে বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ক্ষমতা বাড়িয়ে চলে।একটা উদাহরন দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।মনে করি ভিটামিন এ এভাবে একটি ইলেকট্রন দাণ করে একটি কনাকে স্থিতিস্থাপক করে।যার ফলে সে নিজে একটি ফ্রী রেডিক্যাল কনায় পরিনত হয়।এখন একটি ভিটামিন সি তাকে একটি ইলেকট্রন দাণ করে ভিটামিন "এ" এর ফ্রী রেডিক্যাল থেকে একটি পূর্ণ ভিটামিন "এ"- তে রূপান্তরিত করে।এভাবে চক্রাকারে অন্য সকল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুলো এই পদ্ধতিতে যোগ দেয়।তার মানে এই পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর দরকার হয়।তাই আলাদা করে কোন একটি বা দুটি ভিটামিন খেলে ঠিক ঠিক কাজ করে না।গবেষণায় দেখা গেছে যারা খুব কম পরিমান ভিটামিন সি গ্রহন করে তাদের শুককীটের DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তাই দেখা যাচ্ছে যে এই ফ্রী রেডিক্যাল কনাগুলো আমাদের বংশধারায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।আর তাই এরকম দুরারোগ্য ব্যাধি ও বংশগতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহন করা উচিত।
নিচে কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর উৎস দেওয়া হলঃ
ভিটামিন এ(বিটা-ক্যারোটিন ) :গাজর,পালং,মিষ্টি আলু,তরমুজ,শিম,বীট,লাউ,কলা,লেতুস পাতা ইত্যাদি।
ভিটামিন সি (আস্করবিক এসিড): আমলকী,পাতিলেবু,বাতাবিলেবু,আনারস,কমলালেবু,কাচামরিচ,গাজর,পুদিনা ইত্যাদি।
ভিটামিন ই(টোকোফেরল): গম জাতীয় খাবার,উদ্ভিজ্জ তেল,পালং,লেতুস,ওলকপি ইত্যাদি।
[plulz_social_like width="350" send="false" font="arial" action="like" layout="standard" faces="false" ]





































