আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো Optical illusion সর্ম্পকে।
আমরা যা দেখছি,বাস্তবতার সাথে তার পার্থক্যটাই হলো Optical illusion বা দৃষ্টি বিভ্রম।
Optical illusion বা দৃষ্টি বিভ্রমের ক্ষেত্রে,আমাদের চোখ,কোনো বস্তু বা ছবি সর্ম্পকে যে তথ্য আমাদের মস্তিষ্কে পাঠায়,তার ফলে মস্তিষ্ক সেই বস্তু বা ছবি সর্ম্পকে যে ধারনা তৈরী করে,তা ঐ ছবি বা বস্তুর প্রকৃত ভৌত অবস্থার সাথে মেলে না।
Optical illusion বা দৃষ্টি বিভ্রম তিন প্রকারের হতে পারে।
১.literal optical illusions.
২.physiological optical illusions: বস্তুর উজ্জলতা,রং,আকার,অবস্থান এবং অবস্থানের পরির্বতন ইত্যাদি আমাদের মনে যে প্রভাব ফেলে,তার কারনে হয়।
৩.cognitive optical illusions: অবচেতন মনের ধারনা থেকে সৃষ্টি হয়।
নিচে বিভিন্ন ধরনের Optical illusion বা দৃষ্টি বিভ্রমের ছবি দেয়া হল:::---
নিচের ছবিটির মাঝের + চিহ্নের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন।কিছুক্ষন পরেই দেখবেন + এর চারপাশের বিন্দু গুলো অদৃশ্য হয়ে গেছে।

নিচের ছবিটি একটি স্থির চিত্র।কিন্তু আমাদের চোখের নড়াচড়ার ফলে মনে হয়,ছবিটি নড়ছে।আসলে কিন্তু তা নয়।ছবিটির কেন্দ্রের দিকে আপনার দৃষ্টি স্থির করলেই দেখতে পাবেন ছবিটি আসলে নড়ছে না।এটা motion illusion নামে পরিচিত।

নিচের ছবিটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন ১২+ সেকেন্ড।এইবার ছাদের দিকে বা কোনো সাদা র্পদার দিকে তাকিয়ে দেখুন।আপনি সেখানে একটা ছবি দেখতে পাবেন যা প্রকৃত পক্ষে সেখানে নেই।

নিচের ছবিটি দেখুন ভালো করে।আপনার মনে হবে বাম পাশের রং ডান পাশের চাইতে গাঢ়।কিন্তু প্রকৃত পক্ষে উভয় পাশের রং এর গাঢ়ত্ব সমান।মাঝের দাগটি আপনি হাত বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দিয়ে উভয় পাশের রং এর দিকে তাকালেই বুঝবেন। এই দৃষ্টি বিভ্রমের কারন হলো মাঝের একটি সুক্ষ দাগ।

নিচের ছবিটির হলুদ দাগ দুটির উজ্জল্যতা সমান।কিন্তু আপনার কি তাই মনে হচ্ছে?না। হলুদ দাগ দুটির উজ্জল্যতা সমান হলেও পারির্পাশিক রং গুলোর উজ্জল্যতার পার্থক্যের কারনে আমাদের হলুদ দাগ দুটির উজ্জল্যতা সমান মনে হচ্ছে না।

নিচের ছবিটিকে ভালো করে লক্ষ করে দেখুন।প্রথম ছবিটি দেখলে মনে হবে কালো লাইনের বরাবর রয়েছে নীল লাইনটি।কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কালো লাইনটি আছে লাল লাইনটির বরাবর,যা দ্বিতীয় ছবিতে স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে।প্রয়োজনে আপনি আপনার মনিটরে প্রথম ছবিটি স্কেলের সাহায্যে মেপে দেখতে পারেন।

নিচের ছবিটির A এবং B অংশের ধূসর রং এর গাড়ত্ব সমান।কি বিশ্বাস হয় না?আপনি ছবিটির A এবং B অংশ কোনো ফটোএডিটিং সফটয়্যার দিয়ে Crop করে পাশাপাশি রেখে দেখলেই বুঝতে পারবেন।

নিচের ছবিটির মধ্যবিন্দুর প্রতি দৃষ্টি স্থির রেখে আপনার মাথা সামনে বা পেছনে নিন।দেখবেন বিন্দুর চারপাশের রেখা দুটি নড়ছে।

নিচের ছবিটি আসলে একটি স্থির চিত্র যা দেখলে মনে হয় না।আপনার দৃষ্টি এই ছবির যে কোনো এক বিন্দুতে স্থির করলেই বুঝতে পারবেন।আপনার চোখের নড়াচড়ার জন্যই ছবিটি গতিশীল মনে হবে।

আজ এই র্পযন্তই।এই লেখার পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিলো আপনাদের কাছে একটা বার্তা পৌছানো।
পবিত্র কোরআনের ২৪ নং সূরা আন-নূর এর ৩৯ নং আয়াতে বর্নিত আছে:
যারা কাফের, তাদের কর্ম মরুভুমির মরীচিকা সদৃশ, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে। এমনকি, সে যখন তার কাছে যায়, তখন কিছুই পায় না এবং পায় সেখানে আল্লাহকে, অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
পবিত্র কোরআনের ৪ নং সূরা আন-নিসা এর ৪৪ এবং ৪৫ নং আয়াতে বর্নিত আছে:
তুমি কি ওদের দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, (অথচ) তারা পথভ্রষ্টতা খরিদ করে এবং কামনা করে, যাতে তোমরাও আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়ে যাও।
অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
এই Optical illusion বা দৃষ্টি বিভ্রমের মাধ্যমে একটা জিনিস বুঝা যায়।আমরা যা দেখি,তাই যে সত্য হতে হবে,এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই।আমাদের দেখার বা বোঝার ভূলের কারনে যাতে আমাদের অনেকে বিভ্রান্ত করতে পারে।তাই সাবধান হউন।নিজের ঈমান মজবুত করুন। পবিত্র কোরআনের কিছু অংশ পড়েই অনেকে ইসলামের ভুল বের করার সাহস দেখায়।বিজ্ঞানের অসম্পূর্ন এবং অপরিপক্ক ভাষা দিয়ে পরিপূর্ন জীবনবিধান কুরআনের ভূল বের করার চেষ্টা করে।যে বিজ্ঞান কিছুদিন পূর্বেও বলতো আলোর চেয়ে বেশী গতিশীল কিছু সম্ভব নয়।আজ আবার তারাই বলছে ---
“ইউরোপিয়ান অরগানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ বা সার্ন-এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নিউট্রিনো নামে একটি উপপারমাণবিক কণা (সাব-অ্যাটমিক পার্টিকেল) রয়েছে, যা একাধিক রূপে পাওয়া যায়। এদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এরা খুব অল্প সময়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি রূপ থেকে অন্যটিতে বদলে যেতে পারে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেভার সার্ন গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোর একটি রূপ ‘মুওন নিউট্রিনো’ বিচ্ছুরিত করেন।
পরের ধাপটি হলো, সার্ন থেকে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার দূরে ইতালির গ্রান সাসোর গবেষণাগারে ডিটেক্টর যন্ত্র দিয়ে ওই বিচ্ছুরণগুলো ধরা হবে। এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, ওই দূরত্ব পাড়ি দিতে গিয়ে যে সময় ব্যয় হবে ওই সময়ে পানি, বাতাস ও পাথুরে মাধ্যম হয়ে যাওয়ার সময় নিউট্রিনো কণা অন্য আর কী রূপে পরিবর্তিত হতে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা। আর এ পরীক্ষার সময় দেখা যায়, ওই দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সময় নিউট্রিনো কণা আলোর গতিকে (সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার) পরাস্ত করেছে। ওই ৭৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে আলোর যে সময় লাগার কথা, এর চেয়ে ৬০ ন্যানোসেকেন্ড (১ ন্যানোসেকেন্ড=১ সেকেন্ডের ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ) কম সময়ে নিউট্রিনো কণা ওই দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে।
সার্নের গবেষক ড. আন্তনিও ইরেদিতাতো জানিয়েছেন, এ পরীক্ষায় কণাটির গতি পরীক্ষা করা উদ্দেশ্য ছিল না। ঘটনাক্রমে আলোর চেয়ে বেশি গতির কোনো অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। তবে এ আবিষ্কারের মর্মার্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরেদিতাতো ও তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে তাঁরা ওই পরীক্ষা চালিয়েছেন। বারবার তাঁরা প্রত্যাশা করেছেন, পদ্ধতিগত ভুলের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে সার্ন-এর মুখপাত্র জেমস জিলিস বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগই মনে মনে জপছেন, এটি ভুল, এটি সত্যি হতে পারে না।’ কিন্তু প্রতিবার একই ফল পাওয়া গেছে। “
বিজ্ঞানের এমন অনেক অসম্পূর্নতা রয়েছে।তাই শুধু বিজ্ঞান বা জাকির নায়েকের লেকচার কিংবা কিতাবের কিছু অংশ দিয়ে ইসলাম কে বোঝার চেষ্টা না করে সম্পূর্ন কুরআন এবং হাদিসের আলোকে ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং মহান আল্লাহের সাহায্য প্রার্থনা করুন।ইনসাআল্লাহ ,আপনি সঠিক পথে আসতে সফল হবেন।
লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে,দয়া করে শেয়ার বাটনে ক্লিক করে তা সকলের সাথে শেয়ার করুন।
আর এই জাতীয় পোষ্ট পেতে লাইক দিন + নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের পেজ....
প্রযুক্তি বার্তা [http://www.facebook.com/projukti.bartaa]
[plulz_social_like width="350" send="false" font="arial" action="like" layout="standard" faces="false" ]


































