মানুষের ঘ্রাণশক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে !!!

কথাটি শুনে অবাক হবার কিছু নেই।বেচে থাকার প্রয়োজনে প্রকৃতি আমাদের অনেক কিছু করতে বাধ্য করে।তাই বলে ভাবা যাবে না যে প্রকৃতি আমাদের উপর অবিচার করে।যাই হোক চলুন জেনে নেই কিভাবে মানুষের ঘ্রাণশক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে?

এটি জানতে হলে আমাদের নাকের গঠন ও ঘ্রাণ নেবার পক্রিয়াটা অবশ্যই ভালভাবে জানা দরকার।আমাদের নাকের দু পাশে দুটি ছিদ্র আছে, আর তার ভেতরের দিকে দুটি গহব্বর অবস্থিত।এদুটিকে বলে নাসা-গহব্বর।এই নাসা-গহব্বর এর ভিতর রয়েছে অসংখ্য ঘ্রাণ স্নায়ু বা olfactory nerve।এই ঘ্রাণ স্নায়ু বা olfactory nerve গুলোর সাহায্যে আমারা মূলত কোন কিছুর ঘ্রাণ নেবার কাজটা করে থাকি।এই কোষগুলো হল এক ধরনের গ্রাহক কোষ।এদের সাথে কিছু রিসেপ্টর যুক্ত থাকে।আর এই কোষগুলো মোটামুটিভাবে ২৫০ বর্গ মিলিমিটার জায়গা জুড়ে থাকে।যখন আমারা কোন বস্তুর ঘ্রাণ নেই তখন ঐ বস্তু থেকে ঘ্রাণযুক্ত বিশেষ কনা আমাদের নাকের ঐ  ঘ্রাণ স্নায়ু বা olfactory nerve এ পৌছায়।এবং রাসায়নিক কনা গুলো olfactory nerve এর রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত যুক্ত হয়ে এক প্রকার বৈদ্যুতিক সিগন্যাল তৈরি করে।পরবর্তীতে ঘ্রাণ স্নায়ু বা olfactory nerve এর মাধ্যমে এই  বৈদ্যুতিক সিগন্যাল আমাদের মস্তিষ্কের smell center এ পৌঁছুলে আমরা কোন বস্তুর ঘ্রাণ কেমন তা  বুঝতে পারি।অবশ্য পুরো পক্রিয়াটা সেকেন্ডের কয়েক ভাগ সময়ের মধ্যে ঘটে যায়।এখন কথা হল আমাদের ঘ্রাণ শক্তি কি আগে অনেক বেশী ছিল?আর থাকলে তা এখন কমছে কেন?এর জবাব হলঃ-কোন ইন্দ্রিয়ের ব্যাবহার ক্ষমতা বাড়ালে অন্য গুলোর ক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকে।বিবর্তন পক্রিয়ায় ধীরে ধীরে আমাদের মস্তিষ্কের অধিক বিকাশ ও কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন কমে যাওয়ায় আমাদের ঐ  ঘ্রাণ স্নায়ু বা olfactory nerve এর কার্যক্ষমতা কমে গেছে।তাই মানুষের ঘ্রাণশক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে।তবে এটা ভাববেন না যে এটা দিন দিন কমেতে কমতে শেষ হয়ে যাবে।এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে আছি যেখানে পরিবর্তন হবার খুব সামান্যই দরকার আছে।

[plulz_social_like width="350" send="false" font="arial" action="like" layout="standard" faces="false" ]

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

1 COMMENT

  1. ঘ্রাণ নেওয়ার ক্ষমতা কমতে কমতে একেবারে শেষ হয়ে যাবে না শুনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার মতো একটি আনন্দদায়ক অবিজ্ঞতা থেকে কেউ বঞ্চিত হোক, তা চাই না।