প্রযুক্তির ব্যবহার: প্রায় ৪ বছর পরে যেভাবে বাবা খুঁজে পেলেন হারানো ছেলেকে!

347
একদা যাযাবর বলেছিলেন,
"আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তাতে আছে গতির আনন্দ, নেই যতির আয়েস।"
কথাটি বাংলা রচনায় বেশ কয়েকবার লিখেছিলাম। মাঝে মাঝে যখন বক্তব্যের কোণ ফ্লোর পেতাম, তখনো একটু আধটু বলতাম। আসলে বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও আমি তীব্রভাবে বিশ্বাস করতাম কথাটি। কিন্তু সত্যিই কি তাই!!
এমন এক ঘটনা নিয়েই এই ফিচারটি।
২০১২ ইয়েসং এর হারানোর আগের ছবি
২০১২ ইয়েসং এর হারানোর আগের ছবি
আসলে যখন মানুষ এক হয় তখন অদ্ভুত থেকে অদ্ভুত সব চমৎকার ব্যাপারগুলো ঘটতে থাকে। ঠিক সেরকম একটা মুহুর্ত হয়েছিলো হংকং এ যখন এক বাবা চার বছর আগে হারিয়ে ফেলা শিশুপুত্রকে খুঁজে পেয়েছিলেন। আর সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটিই সম্ভব হয়েছে মাইক্রোসফটের ফেইস রিকগনেশন অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেসের (API) মাধ্যমে। বিষয়টির মূলত বিগডাটা প্রযুক্তির একটি অন্যতম সুফল।
বিগডাটা সম্পর্কে ধারণা নিতে চাইলে এই লিংক থেকে ঘুরে আসুন।
তো পুরো ঘটনাটি মাইক্রোসফটের নিউজসাইটে এই বছরের প্রথম দিকে প্রকাশিত হয়েছিলো। আপনাদের জন্য তার অনুবাদ করে বিজ্ঞান বাংলায় প্রকাশ করা হলোঃ 
জুন ২০১২, গ্রীষ্মের এক সকালে জংসিওউ ওয়াং (Junxiu Wang)  এবং তার পুত্র হংকং এর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের একটি শহর গুয়াংঝু (Guangzhou)  তে তাদের দিন শুরু করলেন। এই শহরে ওয়াং একটা শর্টটার্ম জব করছিলেন। তার চৌদ্দ বছরের ছেলে ইয়েসং (Yesong)  কে ও সাথে নিয়ে এসেছিলেন। দুজনে একসাথে সকালের নাস্তা সেরে ওয়াং প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেন। ফিরে এসে তিনি ইয়েসং কে দেখতে পেলেন না। ওয়াং খুব চিন্তায় পরে গেলেন। তার মেঝো পুত্র ইয়েসং ডউন সিনড্রোমে ভুগছিলো এবং কথাও বলতে পারতো না। ওয়াং ইয়েসং এর চাচীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলেন। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ইয়েসং ওখানে গিয়ে থাকবে। কিন্তু সে সেখানে ছিলো না। স্বভাবতই ওয়াং খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি নিকটস্থ সাবওয়ে ষ্টেশনে গিয়ে একে ওকে জিজ্ঞেস করছিলেন ইয়েসং এর বিষয়ে । একজন খুচরো বিক্রেতা আর একজন নিরাপত্তা রক্ষী জানালেন যে তারা ইয়েসং এর মতো একজনকে দেখেছেন একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে যেতে। ওয়ং এর ভয়  তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগলো। কারণ যদি তার পুত্র খুব দূরে কোথাও গিয়ে থাকে, উনি আর তাকে খুজে পাবেন না।
সেদিন তার ছেলের সাথে ঠিক কি হয়েছিলো, সেটা জানতে ওয়াং এর চার বছর সময় লেগেছিলো। উত্তরটার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো কিছু মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা, চীনের একটা জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো, মাইক্রোসফট ফেসিয়াল রিকোগনাইজেশন টেকনোলজি এবং একজন বাবার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা।
পরবর্তী গল্পের এখানেই শুরু। বর্তমানে অনেক পরিবারকে সহায়তা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের সমাধানে এই প্রযুক্তি এখন চীনে বহুল প্রচলিত। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটা নন-প্রোফিট অর্গানাইজেশন  “Baobei  Huijja” যারা হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারের কাজ করে থাকে এবং তাদের ওয়েবসাইটে সর্বমোট ৬৪,০০ টি কেইস রয়েছে।
সাল ২০১৫। এরিক ঝৌ ( Eric Zhou) মানুষ পাচার ( আদম পাচার)  বিরুদ্ধে  কিভাবে প্রযুক্তিকে আরো বেশি ফলপ্রসূ উপায়ে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে ভাবছিলেন। ঝৌ চীনে মাইক্রোসফটের কর্পোরেট, এক্সটার্নাল এন্ড লিগ্যাল এফেক্টস গ্রুপের ডিজিটাল ক্রাইমস ইউনিটের সাংহাই ভিত্তিক সিনিয়র বিজনেস বুকমার্ক ম্যানেজার, যা সাইবারক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াই এবনহ শিশুদের সহ সহিংস জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করে।
তিনি মাইক্রোসফটের বার্ষিক বিশ্বব্যাপী কর্মচারী Hackathon এর জন্য একটি প্রজেক্ট সাথে নিয়ে এসেছিলেন। এই কাজের সাথে তার বন্ধু কেভিন লিয়্যু ( Kevin Liu ) ও জড়িত ছিলেন যিনি মাইক্রোসফট সাপোর্ট র্ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপে কর্মরত ছিলেন। তারা এমন একটি এপ্লিকেশন তৈরী করতে চেয়েছিলেন যেটা চীনের হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার কাজে সহায়তা করবে।
অনেক চেষ্টার ফলে ফটো মিসিং চিলড্রেন বা ফটোওএমসি(PhotoMC) নামক একটা এপ্লিকেশন বানাতে তারা সক্ষম হন যা কি না মাইক্রোসফট এর ফেইস রিকোগনাইজেশন এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস(এপিআই) এর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খুজে পাওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা। মাইক্রোসফট ফেইস API  হলো  একটি ক্লাউড-ভিত্তিক পরিসেবা যা বৈশিষ্ট্য সনাক্তকরণের জন্য মুখের ছবি স্ক্যান করতে উন্নতমানের এলগোরিদম ব্যবহার করে এবং একই মুখোশের সাথে সম্পর্কিত দুটি মুখভঙ্গি নির্ধারণ করে। এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাজার হাজার মুখের ডাটাবেজ স্কেন করে সম্ভাব্য মিলের তালিকা দিতে পারে। API  ২৭ টি ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এবং একাধিক ফটো এমনকি বিভিন্ন এঙ্গেল এবং মুখের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর সাথে মিলিয়ে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সনাক্তকরতে পারে।
এই প্রযুক্তিটি  Microsoft Cognitive Services এর একটি অংশ। এটি এমন কিছু টুলস এর সমষ্টি যার সাহায্যে ডেভেলপাররা  অভিনব কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন আবেগ, দৃষ্টি ও বক্তৃতা সনাক্তকরণ এবং ডিভাইস ও প্লাটফরমের সাথে ভাষা বোঝার সক্ষমতার মতো কিছু ফিচার যোগ করতে পারেন।
ঝৌ মাইক্রোসফট চায়না ফিন্যানট্রিপিজ লিড ক্রসিং ওয়াং এর কাছে এসেছিলেন যাতে তিনি একটা সংস্থার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন যা ফটোএমসি কে ব্যবহার করতে পারবে। যখন ঝৌ এই প্রস্তাবটি নিয়ে এসেছিলেন, তখন সবাই ভাবলেন এই প্রকল্পকে সমর্থন করার এবং বাস্তব জীবনে এটিকে প্র্যোগ করার এটিই একটি বিরাট সুযোগ। ঝৌ বললেন, তারা মানুষকে সাহায্য করার জন্য কিছু করতে চান।
গ্লোবাল ইমপ্লয়ি হ্যাকাথনে করা PhotoMC অ্যাপের স্কেচ ( ছবি-Microsof)
ক্রসিং ওয়াং এর একটা টিম Baobei  Huijia এর অফিসে যায়। এই প্রতিষ্ঠানটির যে ওয়েবসাইট আছে, সেখানে সাধারন মানুষ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছবি আপলোড করতে পারে। বাবা মায়েরা তাদের হারিয়ে যাওয়া শিশুর ছবি আপলোড করতে পারে এবং এমন কিছু শিশুর ছবিও সেখানে দেয়া যায় যাদের অপহরণ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
মাইক্রোসফট টিম এই সংস্থাকে প্রস্তাব দেয় তাদের বানানো ফটোএমসি এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু  সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা বাইয়্যান ঝাং প্রাথমিকাভাবে এপ্লিকেশনটির ব্যাপারে সন্দেহভাজন ছিলেন। তিনি জানান যে আরো কিছু কোম্পানীও এমন প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছিলো কিন্তু তারা প্রচারমুখী হতে আগ্রহী নন। অথবা এমন হয়েছ যে,কোম্পানিগুলো কিছু সংলাপের পরে উপলব্ধি করে যে, তাদের প্রযুক্তিটি হারিয়ে যাওয়া শিশুদের শনাক্তকরনের প্রাথমিক কিছু চ্যালেঞ্জের ও মোকাবেলা করতে পারেনি যেমন ক্রস-এজ ফেসিয়াল রিকোগনাইজেশন।
ঝাং আরো বলেন, যেসব শিশু ৩/৪ বছর বয়সেই হারিয়ে গিয়েছিলো,তারা হয়তো ২০ বা ২০ এর চেয়ে কিছু কম হতে পারে,যখন তাদের সন্ধান করা হয়। কিছু যোগাযোগের পর তারা অনুভব করলেন এটি সময়ের অপচয় ছিলো এবং পরে তারা কিছু সহযোগিতার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
তবে ঝাং এটা বিশ্বাস করতেন যে ফেসিয়াল রিকোগনাইজেশন প্রযুক্তিটি নিখোঁজ শিশুদের খুজে বের করার জন্য সব থেকে উপযোগী। এবং যদি কোনো কোম্পানী কার্যকরভাবে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে তবে তা মাইক্রোসফট। তিনি জানান যে, গত কয়েক বছরে তাদের সংস্থার উদ্যোগে প্রায় ১৯০০ এর ও বেশি নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে ঠিকই তবে কাজটই খুবই কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। তাই তাদের সাহায্যের প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানের বেশ ক’জন কর্মচারী একটা সরকারি ওয়েবসাইট হাজার হাজার নিখোঁজ শিশুদের ছবির মাধ্যমে ম্যানুয়ালি সাজাতে শুরু করে দিলো। এরপর তারা Baobei  Huijia’র  ওয়েবসাইটে থাকা ৬০,০০০ এর ও বেশি নিখোঁজ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ছবির সাথে আগের সাজানো ছবির মিল খুজতে শুরু করলো।  শিশুদের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যেমন অপরিপক্ক দাত, আঁকাবাঁকা ভ্রূ ইত্যাদির জন্য তাদের সনাক্তকরণের জটিলতা কিছুটা কম হয়। তবে সময়ের পরিক্রমায় যখন মানুষ এর দৈহিক পরিবর্তন ঘটে তখন তাকে সনাক্ত করা খানিকটা জটিল হয়ে পরে। এছাড়াও ছবির উপর ভিত্তি করে বছরের পর বছর নিখোঁজ মানুষকে খুঁজতে খুঁজতে অনেক সময় কর্মীরা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং ভুল হওয়ার ও সমুহ সম্ভাবনা থেকে যায়। ফেইস রিকোগনাইজেশন প্রযুক্তির দরুন মনুষ্য সংঘটিত ত্রুটি অনেকটাই দূরীভূত হয় এবং এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অনেকটাই ত্বরান্বিত হয়।
২০১৫ সালের আগস্ট মাসে মাইক্রোসফট টিম ঝাং এর সাথে প্রথম দেখা করেন। সংস্থাটির প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে মোডিফাইয়িং এবং কাস্টমাইজিং এর মাধ্যমে ফটোএমসিকে আরো বেশি কার্যকরী করে তোলার লক্ষ্যে তারা মাসব্যাপী কর্মসুচী চালায়। এমন কিছু ফিচার সংযুক্ত করা হয় যাতে নিখোঁজ সন্তানদের পিতা-মাতা এবং নিখোঁজ পিতা-মাতার সন্তানদের সম্পর্কিত তথ্য আলাদা করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে বের করা যায়  এবং আরো অনেক ছবি ওয়েবসাইটে দেয়া যায়।
২০১৫ ওর ডিসেম্বরে Baobei  Huijia  সংস্থাটি এর পরিবর্ধিত টুল টি কাজে লাগাতে শুরু করে। এরপরই যখনই ঝুঁকিতে থাকা কোনো শিশুর ছবি তাদের ওয়েব সাইটে দেয়া হয়, ফটোএমসির মাধ্যমে পূর্বে উল্লেখিত  ছবিগুলোর সাথে নতুনটির মিল খুঁজে  বের করা হয়।ঝাং খুবই আশাবাদী হয়ে উঠলেন। তিনি বললেন, এই ফেইস রিকোগনাইজেশন টেকনোলজি সত্যিই তাদের খুব উপকারে এসেছে। এটি তাদের কাজকে আরো বেশি সহজ করে দিয়েছে।
ইয়েসং হারিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা ওয়াং তাকে সাবওয়ে স্টেশন, যুব আশ্রয়স্থলে গিয়ে অনুসন্ধান করেছেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় গুয়াংঝুয়ের রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে হেঁটে তাকে খুঁজে বেড়িয়েছেন। কিন্তু ১৪ মিলিয়নের ও বেশি লোকের শহরে ছেলেকে খুজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিলো। তিনি সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনে নোটিশ পাঠান। বেইজিং এ চীনের সিভিল এফেয়ার্স এর কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেন। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস চলে যায় কিন্তু ইয়েসং এর কোনো খোঁজ মিলে নি। তাও ওয়াং আশা ছাড়েন নি। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো যে তার ছেলে বেঁচে আছে এবং যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন,ছেলের খোঁজ করেই যাবেন।
Junxiu Wang তার ছেলেকে খোঁজার জন্য ট্রেনে চড়ে প্রায় ১৯০০ মাইল ঘুরে বেরিয়েছেন। (ছবি - Microsoft)
ইয়েসং এর নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর ওয়াং Baobei Huijia  সম্পর্কে জানতে পারেন এবং ঝাং এর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। ২০১৫ এর জুলাইতে তিনি রেলপথে  গুয়াংঝো থেকে উত্তরপূর্বে  প্রায় ১৯০০ মাইল দূরে চীনের টানুঘুয়া শহরে যান। ওয়াং সংগঠনটির অফিসে যান এবং সাথে উপহার স্বরুপ একটা কাঁঠাল ও একটা বক্স নিয়ে যান। ঝাং খুলে দেখেন কাঁঠাল টি ভিতরে পচা। বিষয়টা তাকে ভাবাতে শুরু করে। তিনি ভাবতে থাকেন যেহেতু কাঁঠালটি পচে গেছে, তারমানে ওয়াং কতদূর থেকে এসেছেন এখানে!!!  একজন বাবার এই আকুলতা তাকে ব্যাথিত করে।
ওয়াং যাওয়ার ছয় মাস পর, ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে চীনের মিনিস্ট্রি অফ সিভিল এফেয়ার্স এর আওতায় দেশব্যাপী শিশুদের সরকারী আশ্রয়স্থল সম্পর্কিত তথ্যাদি প্রকাশের  জন্য একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়। Baobei  Huijia সেই সাইটে ওয়াং এর দেয়া ইয়েসং এর ছবি দিলেন। সাথে সাথেই ফটোএমসির মাধ্যমে ২০ টি সম্ভ্যাব্য মিলের তালিকা চলে আসে। তাদের মধ্যে একজন ছিলো যে গুয়াংডং সিটির পাণি জেলায় একটা সরকারী আশ্রয়স্থলে বাস করে। ইয়েসং যেখান থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো আশ্রয়স্থল টি সেখান থেকে ২৪ মেইল দূরে ছিলো। ঝাং কিছুটা অবাক হলেন! তবে কি এই ছেলেটিই  ইয়েসং!
ওয়াং ছবিগুলো দেখে তঠক্ষনাঠই তার ছেলেকে সনাক্তকরে ফেললেন। তিনি একটা ডিএনএ নমুনা দিলেন যার সাথে ওয়ি আশ্রয়স্থলের একজন বালক এর ডিএনএ র মিল পাওয়া যায়।
ইয়েশং এবং ওয়াং এর দেখা হওয়ার যাবতীয় সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলো। ২০১৬ এর ফেব্রুয়ারী মাসে তাদেরকে চীনের একটি জনপ্রিয় টিভি শো “Waiting For Me”তে আনা হলো। চীনের কেন্দ্রীয় টিভি(সিসিটিভি) ‘র তত্বাবধানে অনুষ্ঠান টি সম্প্রচার করা হয়। এই অনুষ্ঠানটির মূলুপজীব্য ছিলো বাবা -মায়েরা নিখোঁজ সন্তানদের অথবা তাদের প্রিয় মানুষদের খুঁজে  পাওয়ার লক্ষ্যে যেন Baobei  Huijia  মতো সংস্থার সহযোগিতা নিতে পারেন।
ইয়েসংই প্রথম যাকে নিখোঁজ হওয়ার তিনবছর পর ফটোএমসির মাধ্যমে খুঁজে বের করা হয়। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো বহাল রয়েছে এবং এর সাহায্যেই আরো কিছু নিখোঁজ মানুষ কে উদ্ধার করা গেছে এবং বেশ কয়েকজন এর উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
আরো এক ১৭ বছর বয়সী কিশোর যার যোগাযোগ ক্ষমতা সীমিত , ২০১৪ সালে গুয়াংঝো শহর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়, তার বাবা মা Baobei  Huijia  তে তার ছবি পাঠান এবং ফটোএমসির সহযোগিতায় অল্পকিছু দিনের মধ্যেই তাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তার বাবা-মা এপ্রিলের শেষ দিকে সরকারী আশ্রয়স্থলে আসেন এবং ডিএনএ টেস্ট করে তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
এখন Yesong এর বয়স ১৭ বছর (ছবি- Microsoft)
এছাড়াও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ও নিখোঁজ হয়ে যায় যাকে ফটোএমসির মাধ্যমে নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই খুঁজে পাওয়া যায়।  একজন অটিস্টিক শিশুকেও তার দাদা বাড়ি থেকে ৩০ মেইল দূরে এক আশ্র্যকেন্দ্র এ খুজে পাওয়া যায়।
মাইক্রোসফট Baobei  Huijia’র  সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট রিসার্চ এশিয়া ও মাইক্রোফট ক্লাউড এন্ড এন্টারপ্রাইজ গ্রুপ এর সম্মিলনে ফটোএমসির উন্নয়ন কাজ এখনো চলছে।
ঝৌ বলেন যে, ইয়েসং এর আবার নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার মুহুর্তটি সবাইকে খুব স্পর্শ করে। তিনি আরো জানান যে, তাদের টিম এইভাবেই ফটোএমসির সাহায্যে আরো শত শত পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
References:

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?