সায়েন্স ফিকশন: নি:সঙ্গ অভিযাত্রী (১ম পর্ব)

1145

রামিন একা একটা ঘরে শুয়ে আছে। কিছু অপ্রীতিকর জিনিস ভাল লাগানোর অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা। সে তার মনোযোগ কে অন্য দিকে নেওয়ার জন্য পৃথিবীর ইতিহাস নিয়ে ভাবতে লাগলো। গত ২০০ বছরের পৃথিবীর বিজ্ঞান ইতিহাস দেখে অবাক লাগে রামিনের। গত ২০০ বছরে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে বিজ্ঞানে।

পৃথিবীতে কোথাও শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়না কাউকে। কৃষিকাজের ক্ষেত্রগুলোতে রোবট ব্যাবহার করা হয়। রোবটগুলোও অনেক উন্নত প্রযুক্তির। যে রোবটগুলো যে ফসলের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় সেই ফসলের উৎপাদন সম্পর্কিত সব তথ্য ক্রিস্টাল এর একটা ছোট সিডিতে তাদের কপোট্রনে দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর যা করার রোবট-ই করে। ফসলের উৎপাদন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়। পৃথিবীতে এখন খাদ্যের আর অভাব নেই।

রামিন পৃথিবীর প্রধান বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের একজন গবেষক হিসেবে কিছুদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছে। সে পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা কিভাবে আরো উন্নত করা যায় এটা নিয়ে একটা নতুন গবেষণা করছে। গত ২০০ বছরে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পৃথিবীতে ছোটখাটো যানবাহন হিসেবে যে গাড়িগুলো সবাই ব্যবহার করে সেগুলো দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় চলে এবং কিছু শক্তি সংরক্ষণ করে রাখে। রাতের বেলায় এই সংরক্ষিত শক্তির সাহায্যেই চলে। যানবাহন থেকে এখন আর আগের মত কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হয়না।

 

◄ রাকা বারবার সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। কিন্তু একদম এখন কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা ওর সাথে। কিছুদিন আগে নিউরোসেন্সর এর অপারেশানটা করে ভালই বিপদে আছে রামিন। এতদিন ইচ্ছে করেই করেনি। রাকা সম্ভবপর উপায়ে না হলে অসম্ভব উপায়েও রামিন কে যন্ত্রণা দিতে তার আগ্রহের কমতি নাই। এই মেয়েটাকে বড় আজব লাগে রামিনের। এই পৃথিবীতে এখন এই একটাই মানুষ আছে যে রামিন কে অসম্ভব রকমের পছন্দ করে। অবশ্য রামিন জানে রাকার এটা পছন্দ না, এটা ভালবাসা। রাকা কিছুদিন আগে বায়োটিক ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছে। অনেক সম্ভাবনাময় একটা মেয়ে। এই মেয়ে যে কেন রামিন কে এত পছন্দ করে তা আজও বোধগম্য নয় রামিনের কাছে। নিউরোসেন্সরটা আবার চালু করতেই রাকার গলা শুনতে পায় রামিন। “আমি তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই রামিন।” রামিন বলল, “বল’’। রাকা বলতে লাগল, “আজ আকাশের চাঁদ টা দেখেছ? অনেকদিন পর আকাশে আজ এভাবে চাঁদ উঠেছে। একটু দেখবে প্লীজ।” রামিন সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বলল, “ঠিক আছে দেখব।” এটা বলেই আবার সেন্সর টা বন্ধ করে দিল যদিও এভাবে সেন্সর বন্ধ রাখার অনুমতি কার নেই।

 

রামিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা পদে আছে বলেই সে অনেক জায়গায় কিছু বাড়তি সুবিধা ভোগ করে থাকে। নিউরোসেন্সর অপারেশন নিয়ে কিছু বলা দরকার। এটা মানুষের মস্তিষ্কের একটা অপারেশন। এই অপারেশন এর মাধ্যমে মানুষের নিউরাল সিস্টেমের প্যাটার্ণ কিছুটা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে একটা কোড দেওয়া হয়।

এতে সবার সাথে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগ করা যায় বাহ্যিক কোন যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই। এই পদ্ধতিটা অনেক আগে বের হলেও রামিন কিছুদিন আগে এই অপারেশনটা করেছে। এতটা ভার্চুয়ালিটি ভালো লাগেনা রামিনের।

(চলবে............)

 

 

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

1 COMMENT