সায়েন্স ফিকশন: নি:সঙ্গ অভিযাত্রী (২য় পর্ব)

955

প্রথম পর্বের জন্য পড়ৃন: সায়েন্স ফিকশন: নি:সঙ্গ অভিযাত্রী (১ম পর্ব)

প্রথম পর্বের পর থেকে:

এতকিছু নিয়ে ভেবেও সেই অপ্রীতিকর ব্যাপারটা মাথা থেকে দূর করতে পারছেনা রামিন। ব্যাপারটা হল, আজ একটা সাইবর্গ কে প্রধান বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তার নাম ইমি প্রিনিস।

 

এখন থেকে এই সাইবর্গ এর অধীনে কাজ করতে হবে এটা ভাবতেই মন মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে রামিনের। পৃথিবীর নিয়ম গুলো দিনদিন অসহ্য হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রিয় সব জায়গায় মানুষ থেকে সাইবর্গ এবং কিছু উন্নত প্রজাতির রোবট কে বেশি যোগ্য মনে করা হয় এবং প্রাধান্য দেওয়া হয়। একটাই কারন-তা হল, এরা নাকি জরুরি অবস্থায় সকল আবেগ,অনুভুতির ঊর্ধ্বে থেকে সঠিক সময়ে মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং সঠিকভবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যাই হোক, এই ব্যাপারটা একদমই মেনে নিতে পারছেনা রামিন। মানুষ হয়ে মানুষের বানানো একটা যন্ত্রের অধীনে কাজ করা রামিনের পক্ষে অসম্ভব। আজকে প্রধান বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের মিটিং ছিল। রামিন এর তখন এই সিদ্ধান্তটা শুনে এতটাই মেজাজ খারাপ হয়েছিল যে, রামিন সেখানে সবার সামনে বলে এসেছে, “মানুষরা যেভাবে রোবট অথবা সাইবর্গ বানায় সেভাবে যেদিন রোবট অথবা সাইবর্গরাও একটা মানুষ বানাতে পারবে সেদিন আমি হাসিমুখে তাদের অধীনে কাজ করতে পারব।”

 

এসব অনেক কারণে মনটা একদম বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। তবুও সব মেনে নিতে হয় তাকে। রামিন পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এসব একপাশে সরিয়ে রাখার জন্য আবার নিউরোসেন্সরটা চালু করে রামিন। বাবা মায়ের কথা আজ হঠাৎ খুব মনে পড়তে থাকে রামিনের। মা থাকলে তার কোলে একটু শুয়ে থাকত। বাবা মায়ের ছবিটাও অনেক অস্পষ্ট হয়ে গেছে রামিনের কাছে। সে অনেক চেষ্টা করে বাবা,মা,ছেলেবেলার ছোটাছুটির দিনগুলোর কথা মনে করতে। রামিনের বাবা,মায়ের কথা মনে পড়লেই শুধু একটা কথাই মনে পড়ে। তা হল মা সবসময় রামিন কে বলত, তুই একদিন অনেক বড় হবি বাবা। রামিনের বাবা মারা একটা মহাকাশ অভিযানে। রামিন তখন অনেক ছোট।

কিছুদিন পর মাকেও হারায় সে। অনেক কম ভালবাসা এবং সীমাহীন এক নিঃসঙ্গতার মাঝে বড় হতে হয়েছে রামিনকে। এখন এই নিঃসঙ্গতায় রামিন এত বেশি অভ্যস্ত যে বিন্দুমাত্র কোলাহল অথবা কারো একটু ভালবাসাও রামিনের কাছে অস্বাভাবিক লাগে। মায়ের চেহারাটা মনে করার অনেক চেষ্টা করে রামিন। অবশ্য মায়ের ছবি মনে করাটা কোন সমস্যা নয়। তার বার্থ আইডেন্টিটি কোডটা সেন্ট্রাল কো-ইনফরমেশান মডিউলে দিলেই ঘুম ব্যতীত তার জীবনের সমস্ত ঘটনা দেখা যাবে। মানুষের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার জীবনের সচেতন অবস্থার সব স্মৃতি,সব ঘটনা তার বার্থ কোড অনুযায়ী সেন্ট্রাল কো-ইনফরমেশান মডিউলে রাখা হয়। এই জিনিসটি করা হয় মানুষের নার্ভাস সিস্টেমের কার্যনীতির উপর। সচেতন অবস্থায় মানুষ তার নিউরণে যে পরিমাণ স্মৃতি রাখে তাই সেন্ট্রাল কো-ইনফরমেশান মডিউলে রাখা হয়।

( চলবে......)

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?