ব্রেইল-দৃষ্টিহীনদের সহায়ক এক পদ্ধতি

ব্রেইল-দৃষ্টিহীনদের সহায়ক এক পদ্ধতি

ছোটবেলায় টিভিতে দেখতাম অন্ধ লোকজন বই এর উপর হাত রেখে পড়ছে। বইটি দেখা যাচ্ছে সাদা তবে তাতে কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র দেখা যাচ্ছে। আবার লেখার সময় সুঁই এর মতো কিছু একটা নিয়ে খাতায় ছিদ্র করে লিখছে। খুবেই অবাক হলাম তাদের পড়ালেখার এই পদ্ধতি দেখে। পরে একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটার নাম ব্রেইল পদ্ধতি। ব্রেইল হচ্ছে এমন একটা পদ্ধতি যার সাহায্যে দৃষ্টিহীনরা স্পর্শের মাধ্যমে লিখতে এবং পড়তে পারে।ফ্রেঞ্চ লুইস ব্রেইল (Louis Braille) নামে একজন অন্ধব্যাক্তি ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে দৃষ্টিহীনদের পড়ালেখার এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যা পরবর্তীতে চার্লস বার্বিয়ার নামে ফ্রেঞ্চ আর্মির একজন ক্যাপ্টেন মানোন্নয়ন করেন।

 

brail

 

ব্রেইল পদ্ধতিতে একটি চতুর্ভুজ আকৃতির বক্স এ ছয়টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকবে ৩ x২ কলামে।অর্থাৎ নিচের দিকে তিনটি এবং পাশাপাশি ২ টি।প্রতিটি ছিদ্র এক একটি বর্ণমালা,সংখ্যা নির্দেশ করবে। এই ছয়টি খালি ছিদ্রের মধ্যে একটু উঁচু বা পুর্ণ যেগুলো থাকবে সেগুলোই হচ্ছে বর্নমালা বা সংখ্যা চেনার নির্দেশক।কি বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে??? নিচের ছবিটি দেখলে বুঝে যাবেন আশাকরি।

যেমন, গ্যালাক্টিকা(Galactica) ব্রেইল পদ্ধতিতে লিখলে তা দেখতে হবে নিচের চিত্রের মতো।

 

এখানে   দিয়ে বোঝানো হচ্ছে G Capital Alphabet.

এই পদ্ধতির মোট তিনটি ভার্সন বা শ্রেনীবিভাগ আছে ।সেগুলো হলঃ

গ্রেড ১: এটি মুলত যারা নতুন করে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়া শিখতে চায় তাদের জন্য।এই গ্রেডে সাধারণত ২৬ টি বর্নমালা এবং  কিছু চিহ্ন শেখানো হয়।

গ্রেড ২: এই গ্রেডে বর্নমালা শেখানোর পাশাপাশি পাবলিক প্লেসে ব্যবহার করা বিভিন্ন চিহ্ন,ব্রেইলে করা বই পড়া ,ব্রেইল করার জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে পরিচয় এবং তা ব্যবহার করার নিয়ম শেখানো হয়।

গ্রেড ৩: ব্রেইলের বর্ণমালা এবং পড়ার সাথে যারা মোটামুটি ভালভাবে পরিচিত হয় তাদের এই গ্রেডে বিভিন্ন ছোটখাটো লেখা কিভাবে লিখতে হয় সেটি শেখানো হয়।

বর্তমানে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মাতৃভাষা উপযোগী করে এই পদ্ধতির ব্যবহার হচ্ছে দৃষ্টিহীনদের শিক্ষা প্রদানে। এই পদ্ধতি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে তাদের কাছে। অনেক দেশেই ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করে অন্ধ ব্যাক্তিরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ,ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করছে। বাংলাদেশেও ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান চালু হয়েছে। এছাড়াও ব্রেইল পদ্ধতিতে করা কিবোর্ড, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিকস পন্য বাজারে পাওয়া যায়।

ব্রেইল পদ্ধতিতে জটিল শব্দ বা সংখ্যা চেনার আর কিছু নিয়ম নিচে দেখুন।